Rabiul Awal

জন্মদিনে কেক না কাটা, মুনিয়া আক্তার আর ঊনপ্রেম বিষয়ক

Published in arts and life.

মুনিয়ার জন্মদিনে আমরা সিদ্ধান্ত নিছিলাম যে এর পর থেইকা আর কারুর জন্মদিনে আমরা কেক কাটবো না। একেতো কেক কাটা হুদাই পেইনফুল এক আচার, অযথা অর্থনষ্ট করা আর দুয়ে নোয়াখালী শহরের রেস্টুরেন্টগুলার কেক খাইতে এবং দেখতে খুবই বাজে হয়। তো অই জন্মদিনে আমি মুনিয়ারে বরাবরের মতন বলছিলাম যে তোর ছেলেবন্ধু একটা বোকাচোদা এবং খচ্চর প্রকৃতির ছেলে। দেখলেই মেজাজ তিতকুটে হয়ে যায়। এবং এই বালের লগে তার কোন অবস্থাতেই প্রেম করা ঠিক হইতেছে না। এই আলাপে সে বিস্তর বিরক্ত হইলো। মন খারাপ করলো নিশ্চয়ই। এবং পরবর্তীতে আমি আবিষ্কার করলাম মুনিয়া আমারে আনফিশিয়ালি বর্জন দিছে। ওর এমনিতেই মাথায় বুদ্ধি কম ছিলো। আমাদের বন্ধু মহলে জুইটা গেলো কি কইরা সেটা এখন মনে পড়ে না।

মুনিয়া দেখতে তখন মোটামুটি সুন্দরী ছিল। অন্তত আমার ভালোলাগতো। এখন কিছুটা অসুন্দর হইছে। ক্যাম্পাস ছাইড়া গেলে আবার সুন্দরে ফিইর‍্যা আসবে হয়ত। মুনিয়া পড়াশোনা করে বায়োটেকনোলজি এন্ড জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে। ক্যাম্পাসের অধিকাংশ বিভাগের মতন এই বিভাগটা অত্যন্ত ফালতু একটা বিভাগ বইলা আমার ধারণা। অবশ্য এখানকার সবগুলা বিভাগের একশোটা দোষ খুইজা পাইতে কারুর কষ্ট হবে না। ক্যাম্পাসের দোষগুণ বিচার করতে গিয়াই আমরা অধিকাংশ বন্ধুবান্ধব জুটাই আসলে। পরবর্তীতে এই বন্ধুদের দল ক্যাম্পাসে একটা ইনফ্লুয়েনশিয়াল সার্কেলে পরিণত হয়।

মুনিয়া আমাদের প্রথম দিককার গুরুত্বপূর্ণ বান্ধবী ছিল। আমরা একলগে কিছু সিগনিফিকেন্ট কাজ করার চেষ্টা করছিলাম। সে সময় একটা এনজিও ঘরানার সংগঠনে সে পদধারী সংগঠক ছিলো। পরবর্তীতে ক্যাম্পাসে রক্ত দাতাতদের সংগঠন করার সময়টাতেও ও বেশ লম্বা সময় ক্যানভাসিংয়ে ছিল। মুনিয়া সুন্দরী, ফটোজেনিক, লম্বাটে, নিম্নবুদ্ধির এবং নিরীহ প্রকৃতির নারী। তখন আমি ভাবতাম মুনিয়ার সাথে সাজ্জাদের (কবি সাজ্জাদ হোসেন) গোপন প্রেম চলতেছে। ওর সাথে আমার প্রেম হইতে পারে কিনা তা নিয়াও মাঝেমইদ্যে ভাবতাম, এই কথা অস্বীকার করবো না আজ। প্রেম নিয়ে এমন ঊন ভাবনা ভাবতে আমার ভাল্লাগতো তখন।

ছাত্র সংগঠন করাকরিতে মুনিয়া আক্তার বেশিদিন টিকে নাই। ক্যাম্পাসে ছাত্র সংগঠন করা সব সময়ই একটা ক্লান্তিকর, আনওয়েলকামিং এবং যন্ত্রণাদায়ক অভিজ্ঞতা তইরি করে। এইসব জড়ায়া মধ্যবিত্ত ঘরের আদুরে মেয়ে এবং সদ্য সেনাবাহিনীতে যোগ দেয়া যুবকের প্রেমে পড়া মুনিয়া খুব বেশিদিন শামলায়া যাইতে পারে নাই। মুনিয়া আমারে একবার বলছিল ও নেভী কলোনিতে থাকতো। এর থেইকা ধারণা করা যায় ওর বাবাও ডিফেন্স ঘরানার কোন একটা চাকরি করতেন। বাবারে দেইখা এক ধরণের রোমান্টিসিজম হয়তো ডিফেন্সের লোকেদের জন্য ওর ভেতরে কাজ করতে পারে। আমার চোখে তিতকুটে লাগা যুবকরেও তাইকিনা আজতক ও দারুণ রকম ভালোবাইসা যাইতেছে এবং প্রেম কইরা বেড়াইতেছে।

মুনিয়া নিজেরে বেশ গুটায়া নেয় কিছুদিন পর। বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় বর্ষের মাঝমাঝি সময় থেইকা সব সংগঠন, আড্ডাবাজি ছাইড়া দিয়া সে একান্ত ব্যক্তিগত জীবনযাপন শুরু করল। ক্যাম্পাসেও তাকে খুব একটা খুঁজে পাওয়া যেত না। এবং আমাদের সার্কেলের ঝরে যাওয়া প্রথম ফুল হয়া উঠল মুনিয়া। আরো কয়েকবার বছর পর দেখা যাবে আরো অজস্র ফুল ঝরে যাচ্ছে, প্রেম আর অপ্রেমে, জয়পরাজয়ের বেদনায় আমরা ক্লান্ত এবং দিশেহারা হয়ে উঠছি দিনকেদিন। আর সময় বদলে যাচ্ছে, অপরিচিত হয়ে উঠছে চারপাশ। হারিয়ে যাচ্ছি ধীরে।

তো তার ছেলেবন্ধু নিয়ে অযাচিত মন্তব্য কইরা এবং বর্জন লাভ কইরা আমার খুব একটা অন্যায় হইছে বইলা মনে হয় নাই কখনো। ওরে যেহেতু আমরা ভালোবাসতাম এবং বিশ্ববিদ্যালয় খুব কাছের বন্ধু ছিল বর্জন সত্ত্বেও তার লগে একটা ক্যাজুয়াল সম্পর্ক বজায় রাখতে চেষ্টা করলাম আমি। সেটা অবশ্য সম্ভব হয়নাই আর। আমি ছাড়াও অন্যান্যদেরকেও সে এড়িয়ে চলা শুরু করলো। আস্তে আস্তে ও ব্লার হইতে থাকলো মেমোরি থেইকা। ঊনপ্রেমও অন্য দিকে মোড় নিতে থাকলো পরেপরে।

কয়েকদিন আগে র‍্যাগ উৎসবে আমরা খানিক আলাপ করছি। আগের মতনই প্যাচপ্যাচা আছে আর বর্তমানে খানিক অসুন্দর। ওর অভিযোগ ছিল মানুষের অভিমান বোঝার ক্ষমতা আমার নাকি কখনো হবে না। কবি সাজ্জাদ হোসেনের প্রতি কি অভিযোগ করছিল তা আমি জানি না। আমার বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ নিতান্তই বাজে অভিযোগ বইলা আমার কাছের লোকরা জানবেন।

কেক কাটার আচার পরবর্তীতে সিরিয়াসলি বাতিল হয়ে যায়। জন্মদিনগুলাও খুব একটা আহামরি কিছু আমাদের মনে হয়না পরে। এখন এমন হয় যে কার কবে জন্মদিন যাইতেছে তারই হিশেব থাকে না ঠিকঠাক। এই লেখাটি যখন আমি লিখতেছি তখন ক্যাম্পাসে আমার আর দুতিনমাসের মতন সময় বাকি আছে কেবল। র‍্যাগ হয়ে গেলো, মুনিয়া ফাইনাল পরীক্ষা দিয়া ফেলছে হয়ত। র‍্যাগ উৎসবে মুনিয়ার টিশার্টে মিছেমিছি লেখছিলাম – তুই আমার প্রথম প্রেম। আসলে শব্দটা হবে ঊনপ্রেম।

Comments

comments